শুক্রবার, ১০ Jul ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ন

বাঘায় প্রতিদিন ৪ কোটি টাকা আম বেচাকেনা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় চলছে আম মৌসুম। প্রতিদিন সরকারি হিসেবে ৪ কোটি টাকা বেচাকেনা হচ্ছে। তবে বেসরকারি হিসেবে প্রায় ৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। উপজেলায় আম ঘিরে চলছে ব্যস্ততা।

জানা যায়, উপজেলায় দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে ৩০ হাজার ৩৮৯টি কৃষি পরিবার রয়েছে। আম বাগান রয়েছে ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর। উপজেলার সড়কপথ, পতিত জমি ও বাড়ির আঙিনার পাশাপাশি বিঘার পর বিঘা জমিতে আমের গাছ রোপণ করা রয়েছে। বর্তমানে উপজেলায় ছোট বড় দুই হাজার ব্যবসায়ী রয়েছে। তারা সকাল থেকেই আম নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তারা আমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। উপজেলার আম দেশের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক আড়ত রয়েছে। কর্মচারী রয়েছে দুই হাজার।

উপজেলায় ১৫ মে থেকে গুটি আম, ২০ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে লক্ষণভোগ, ২৮ মে থেকে হিমসাগর, ৬ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৩ জুন থেকে আম্রপালি, ১৫ জুন থেকে ফজলি সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে। এদিকে ১০ জুলাই থেকে আশিনা ও ১০ জুলাই থেকে বারি-৪ আম সংগ্রহ শুরু হবে।

উপজেলায় প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১ হাজার মেট্রিকটন আম উপজেলার বাইরে চালান করা হয়। ২৯ জুন উপজেলার বিভিন্ন আড়তে প্রতিমণ খেরসাপাত, ল্যাংড়া, আম্রপালি আম ২৫০০-২৮০০ টাকা, লক্ষণভোগ ৭০০-৮০০ টাকা, ফজলি ১৫০০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এদিকে গাছপাকা লক্ষণভোগ ১৫-১৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

আড়ানী বাজারের মঞ্জু এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, চলতি আম মৌসুমে আমার আড়তে প্রতিদিন প্রায় ৮-১০ লাখ টাকার আম বেচাকেনা হয়। তবে উপজেলায় উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ কোটি টাকা বেচাকেনা করে।

মনিগ্রামের আম ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান বলেন, আমার প্রায় দুই কোটি টাকার আম ক্রয় করা রয়েছে। সেখানে প্রতিদিন ৪৫ জন করে লেবার কাজ করে। তাদের জন প্রতি মজুরি ৩৫০ টাকা করে। আমার প্রতিদিন এক ট্রাক করে আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আড়তে দেয়া হয়।

আড়ানী গোচর গ্রামের আবুল কালাম বলেন, আমার নিজের জমিতে যে বাগান আছে, সেগুলো নিজেই পরিচর্যা করে আম তৈরি করেছি। এই আম গাছ থেকে নামিয়ে স্থানীয় আড়তে নিয়ে যাওয়ার জন্য ক্যারেট সাজিয়ে রেখেছি। ভ্যান আসলেই উঠিয়ে নিয়ে যাব। আমি প্রতিমণ লক্ষণভোগ আম ৭৪০ টাকা দরে আড়তে বিক্রি করেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, সরকারি হিসেবে চলতি মৌসুমে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১ হাজার মেট্রিকটন আম উপজেলার বাইরে চালান করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আম নামানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সব সময় নজরদারি ও কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com